1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
গাম তাদের নিত্যসঙ্গী! - MVOICE 24
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৭:৩২ অপরাহ্ন

গাম তাদের নিত্যসঙ্গী!

কে এম রাজিব/আকলিমা আকতার মনি
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২
  • ২৮০ বার পড়া হয়েছে

।।কে এম রাজিব/আকলিমা আকতার মনি।।

এমভয়েস ডেস্ক, মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০২২: পথ শিশু! যাদের বয়স ১০/১৫ বছরের মধ্য সীমাবদ্ধ। ফুটপাত ও রাস্তার দ্বারে যাদের বেড়ে উঠা ও বসবাস। সমাজে সবার কাছে তারা করুণার পাত্র। সমাজে আমরা তাদের বোঝা মনে করি। তাই কেউ তাদের দায়িত্ব নিতে চায় না। যে বয়সে তাদের বই খাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে তারা ড্যান্ডি (গাম) নেশায় আসক্ত হয়ে অন্ধকারের পথের অভিযাত্রী। বাপ মা বিহীন এসব পথ শিশুরা সাময়িক সুখে’র আশায় ড্যান্ডি (গাম) সেবনক করে দিনদিন অন্ধকারের চোরাবালিতে হারিয়ে যাচ্ছে। তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে ওদের জীবন। রাত দিন এখন শুধু তাদের কাছে গামই নিত্যসঙ্গী। এ গাম সেবনের ফলে পথশিশুরা চুরি-ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি হত্যাকান্ডেও জড়িয়ে পড়ছে। তাদের ব্যবহার করা হচ্ছ বড় বড় মাদক বহনের বাহক হিসেবেও।

আইক পলিথিনে ভরে নেশা করছেন শিশুরা।

সরজমিনে দেখা যায়, নগরীর কোন বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন কিংবা সড়কের ফুটপাত গুলোতে
দিনে দুপুরে তারা দলবেঁধে গাম সেবন অবস্থায়। এসব পথশিশুরা বসে বসে কেউবা সেবন করছে, কেউ তন্দ্রাছন্ন আবার কেউ কেউ মুখ পলিথিনে পুরে শ্বাস নিতে মগ্ন ড্যান্ডি নামক এই নেশায়। রাতে তাদের আড্ডা বড় ও জমজমাট হয়। জুতা কিংবা ফোমে ব্যবহৃত সলিউশন (গাম) পলিথিনে ভরে কিছুক্ষণ পরপর মুখের সামনে নিয়ে শ্বাস টেনে নেশা করে। তবে এই গাম নিষিদ্ধ কোনো বস্তু না হওয়ায় এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এবিষয়ে চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তপন শর্মা জানান, এসব পথশিশুদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব নয় বলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি জুতার আঠা নিষিদ্ধ কোনো বস্তু নয়। এ কারণে এ বিষয়ে কিছু করতেও পারছি না। এটি একটি নতুন নেশা। শুধু চট্টগ্রাম অনেক পথশিশু এই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। গাম যেহেতু আমাদের একটি প্রয়োজনীয় দ্রব্য তাই বিক্রি বন্ধ করা যাবে না। তবে আমাদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এটি যারা বিক্রি করেন তারা একটু সচেতন হলেই এ নেশা থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব।

নেশায়মত্য পথশিশুরা।

অন্যদিকে এসব গাম সেবনকারী পথশিশুদের স্বাভাবিক ভাবে ফিরিয়া আনায় সমাজ সেবার কোনো আওতায় পড়ে কিনা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সমাজ সেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ পরিচালক মোঃ ওয়াহিদুল আলম বলেন, যেহেতু আমাদের কোনো পুলিশি কাজ নেই, সেই ক্ষেত্রে যদি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এসব পথশিশুদের আইনের আওতায় এনে যদি আমাদের দেন তাহলে তাদের আমরা সংশোধন করার চেষ্টা করবো।

স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে পথশিশুরা যদি ধ্বংসের পথে চলে যায় তাহলে তাদের ভবিষ্যত খুবই অন্ধকার। এসব থেকে তারা বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে। আমরা এবং সংশ্লিষ্টরা যদি সচেতন হয়ে এসব পথশিশুদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে পারি তাহলে তারা আলো পথে ফিরিয়ে আসবে বলে মনে করি।

টিএএস/এমএমএইচ/৯

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team