1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
শাপলা মিডিয়া’র ভবিষ্যৎ কী - MVOICE 24
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন

শাপলা মিডিয়া’র ভবিষ্যৎ কী

ডেক্স নিউজ
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৬ জুন, ২০২২
  • ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

এমভয়েস বিনোদন ডেস্ক, ৬ জুন ২০২২: দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘জাজ মাল্টিমিডিয়া’র আবির্ভাব ২০১১ সালে। প্রতিষ্ঠার পর ব্যবসাসফল সিনেমা নির্মাণ করে দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলে প্রতিষ্ঠানটি। ‘নবাব’, ‘শিকারি’ ও ‘অগ্নি’, ‘বস ২’, ‘পোড়ামন ২’, ‘বাদশা-দ্য ডন’র মতো ব্যবসাসফল অনেক সিনেমা তৈরি করেছে তারা। এ ছাড়া মাহিয়া মাহি, নুসরাত ফারিয়া, জলির মতো নায়িকার উত্থানও হয় এই প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। কিন্তু ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িয়ে পরেন জাজের কর্ণধার আবদুল আজিজ। এরপর নিভতে থাকে প্রতিষ্ঠানটির নাম ও যশ। বলা যায়, ‘জাজ মাল্টিমিডিয়া’ এখন অনেকটাই নিস্তেজ।

‘জাজ মাল্টিমিডিয়া’ যখন নিভু নিভু, ঠিক তখনই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে আলোর হাতছানি দিয়ে শাপলা মাল্টিমিডিয়ার আবির্ভাব। চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খানকে নিয়েই যাত্রা শুরু করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি। এর কর্ণধার সেলিম খানের সঙ্গেও গড়ে ওঠে তার নিবিড় সখ্যতা। ২০১৮ সালে শাকিব খানের সঙ্গে ‘আমি নেতা হবো’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রথম আলোচনায় আসে শাপলা মিডিয়া।

‘ঘুমিয়ে পড়া বিএফডিসি এবার জেগে উঠবে/ চলচ্চিত্রের সবার মুখে আবার হাসি ফুটবে’ শ্লোগান নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে ১০০ সিনেমা নির্মাণের। তারপর শাকিবকে নায়ক করে ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’, ‘ক্যাপ্টেন খান’ ও ‘শাহেনশাহ’ সিনেমা নির্মাণ করে বাংলাদেশে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কয়েক দিন পরেই তাদের সম্পর্কের ফাটল ধরে। আর এই সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি অর্ধশত কোটির বেশি অর্থ লগ্নি করে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে, যা বিভিন্ন নথি থেকে উঠেছে এসেছে। আর এসব অর্থের কোনো বৈধ উৎস এখনো খুঁজে পায়নি দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাপলা মিডিয়ার ব্যানারে মুক্তির অপেক্ষায় আছে রায়হান মুজিবের ‘চাঁদনী’, শামীম আহমেদ রনির ‘বিক্ষোভ’ ও ‘বুবুজান’, নিরঞ্জন বিশ্বাসের ‘আপন পর’, কমল সরকারের ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারিজ’, মির্জা সাখাওয়াৎ হোসাইনের ‘অপুর বসন্ত’, জাফর আল মামুনের ‘এক পশলা বৃষ্টি’, জসিম উদ্দিন জাকিরের ‘কলিজাতে দাগ লেগেছে’, পূজন মজুমদারের ‘প্রিয়া রে’, চন্দন চৌধুরীর ‘২৪.৩-এর রাত’, রাজু চৌধুরীর ‘জ্বলছি আমি’, জেসমিন আক্তার নদীর ‘চৈত্র দুপুর’, শাহীন সুমনের ‘গ্যাংস্টার’ এবং মিজানুর রহমান লাবুর ‘পরী তোমার জন্য’। সিনেমাগুলোতে অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি, সাইমন সাদিক, সাইফ খান, কায়েস আরজু, ফারজানা রিক্তা, সাঞ্জু জন, বিপাশা কবির, দেশ, আমান রেজা, ফারিন খান, মৌ খান, শান্ত খান (সেলিম খানের ছেলে), কলকাতার শ্রাবন্তী, কৌশানি মুখার্জিসহ অনেকে।

সম্প্রতি শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খানের বিরুদ্ধে অবৈধ্য বালু উত্তোলন, জমি দখলসহ নানা অপকর্মের কথা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। এসব অভিযোগের সত্যতা জানতে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন সংস্থা। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার ও চাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খানকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব কারণে অনিশ্চিতার পথে হাঁটছে সেলিম খানের এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি।

সিনেমা পাড়ায় এরই মধ্যে কথা রটেছে, শাপলা মিডিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত! তারা এসেছিল একটি স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। মোটামুটি সফলও হয়েছে বলা চলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুণী একজন নির্মাতা ও অভিনেতা বলেন, ‘চলচ্চিত্রে এসে তারা তাদের লোকবল ভারী করেছে। অনেক পরিচালক-অভিনয়শিল্পীদের নিজেদের পক্ষে নিয়ে তারা নানা স্বার্থ উদ্ধার করেছে। পরিচালক ও প্রযোজক সমিতিতে নিজেদের লোকবল বাড়াতে অনেক কাজই তারা করেছে। তাদের পক্ষে অনেক নেতাকর্মীই এখন কথা বলে। আর চলচ্চিত্রের বিভিন্ন মানুষের ব্যবহার করে সরকারের লোকদের কাছ থেকে তারা অনেক কাজ হাসিল করে নিয়েছে। তারা এছে চলচ্চিত্রে আনন্দ-ফুর্তি করার জন্য, এর উন্নয়নের জন্য নয়। বঙ্গবন্ধুর ও দলের নাম ব্যবহার করে সে (সেলিম খান) নিজের উন্নয়ন করেছে, যার প্রমাণ আপনারা ইতোমধ্যেই পেয়েছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম খান গনমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি গতকাল রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছি চাঁদপুরে। সেখানে আমি সাংবাদিকদের বলেছি, কোনো নোটিশ ছাড়া আর সেন্ট্রাল আওয়ামী লীগের নোটিশ ছাড়া আমাকে কিভাবে তারা আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে। এই বহিষ্কার অবৈধ্য। আর সেন্ট্রাল আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অনুমোদন আনতে হবে। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়ার আর কিছুই না।’

সেলিম খান আরও বলেন, ‘এই বহিষ্কার আমার ও আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রভাব ফেলবে না। শাপলা মিডিয়া তার মতো করে সিনেমা প্রযোজনা করে যাবে। আমরা সামনে আরও বেশ কিছু সিনেমা নিয়ে আসব।’

সেলিম খানের ছেলে নায়ক শান্ত খান বলেন, ‘আমি আব্বুর রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলবো না। ছবির বিষয়ে কথা থাকলে বলেন।’

হাতে থাকা সিনেমার কথা জানতে চাইলে শান্ত খান বলেন, ‘হাতে বেশ কিছু ছবির কাজ আছে। আর কয়েকদিন আগে কয়েকটি ছবির কাজ শেষ করেছি। নতুন করে আরও কিছু ছবির বিষয়ে আমার কথা চলছে। সব ঠিক হলে সবাইকে জানাব।’

টিএএস/এএএম/এমএমএইচ/৪

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team