1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
আজ নাট্যজন সাংবাদিক প্রদীপ দেওয়ানজী'র ৬৭তম জন্মবার্ষিকী - MVOICE 24
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন

আজ নাট্যজন সাংবাদিক প্রদীপ দেওয়ানজী’র ৬৭তম জন্মবার্ষিকী

ডেক্স নিউজ
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩৭৪ বার পড়া হয়েছে

এয়ভয়েস ডেস্ক: আজ শুক্রবার নাট্যজন সাংবাদিক প্রদীপ দেওয়ানজী’র ৬৭তম জন্মবার্ষিকী।

সদা হাস্যজ্জল শ্রদ্ধাভাজন নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজীর জন্মদিনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল এমভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই আমাদের অন্তহীন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শুভ জন্মদিন শুভকামনা সবসময়।

সদ্যপ্রসূত বাংলাদেশে যে ক’জন মানুষ সাংস্কৃতিক জাগরণের অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রদীপ দেওয়ানজী। একজন নাট্যজন, সাংবাদিক হিসেবেই শুধু তাঁর পরিচয় সীমাবদ্ধ নয়; বহুমাত্রিক প্রতিভায় তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

ছবি- নাট্যজন সাংবাদিক প্রদীপ ব্যানার্জি

এক নজরে প্রদীপ দেওয়াজী:

সৃষ্টিশীল কাজে বিশ্বাসী প্রদীপ কান্তি দেওয়ানজীর জন্ম ১৯৫৪ সালের ৫ নভেম্বর। মীরসরাইয়ের মিঠানালা ইউনিয়নের মলিয়াইশ গ্রামের প্রয়াত মনীন্দ্র মোহন দেওয়ানজী ও সুধারাণী দেওয়ানজীর ৪ সন্তানের মধ্যে তিনি ২য়। স্ত্রী শিক্ষিকা বন্দনা চৌধুরী ও একমাত্র সন্তান আভাস চিরন্তন দেওয়ানজীকে নিয়েই তাঁর সংসার।
স্কুলজীবন থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছিলেন প্রদীপ দেওয়ানজী। ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রামের প্রবর্ত্তক বিদ্যাপীঠে ৪র্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রামের সুমতি’ অবলম্বনে নাটকে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। ৮ম শ্রেণিতে আবারো ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা’ নাটকের একটি চরিত্র হয়ে মঞ্চে ওঠেন। চট্টগ্রাম কলেজে পড়ার সময় কলেজের তৎকালীন অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদের নজরে আসেন তিনি। অতঃপর তাঁরই দিক নির্দেশনায় যুক্ত হয়েছিলেন ‘নীল দর্পন’ ও ‘কাঞ্চনরঙ্গ’ নাটকে। রতন কুমার ঘোষের ‘সকালের জন্য’ এবং হাবিব আহসান কোহিনুরের ‘তরুণ ও বহমান ক্ষত’ নাটকে অভিনয় করেছেন। কিন্তু তখনও প্রদীপ দেওয়ানজী ভাবেননি, নাটকই একসময় তাঁর জীবনের অংশ হয়ে যাবে।

রাজনীতি বিজ্ঞানে এম.এ ডিগ্রিধারী স্পষ্টবাদি এই নাট্যজন প্রাচীনতম প্রকাশনা ‘দৈনিক আজাদী’ পত্রিকার ফিচার সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। তিনি পছন্দ করেন না শঠতা, প্রশ্রয় দেন না ভণ্ডামীকে। ছাত্রাবস্থা থেকেই গল্প-কবিতা লিখতেন। এ পর্যন্ত তাঁর হাতে রচিত হয়েছে ২০টির বেশি নাটক। নির্দেশনা দিয়েছেন ১৩টি নাটকে।
প্রদীপ দেওয়ানজী ১৯৭৬ সালে ‘আবু দেওয়ান’ ছদ্মনামে লিখেছেন প্রথম নাটক ‘আসবে সুঠাম সময়’। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ পরিষদ আয়োজিত সাহিত্য প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার জিতে নেয় নাটকটি। এরপর একাধারে লিখেছেন-অবাক রাজার অবাক কাণ্ড, রাকস, দাবি, অয়নের জবানবন্দি, সুশীল প্রতিবাদ, চোর সাধুচরণ, সনাতনী, কাদামাখা মাইক্রোবাস, দ্যাট ইজ হোয়াই, টাকা মানুষ, প্রস্তুতি সভা, মনিব মানবিক, কয়াগ্রামে পালাবদল। লিখেছেন শিশুতোষ নাটক-রক্ত রাজা সবুজ পরী, ইচ্ছে, মন ভালো চশমা, বোকা চালাক আর চালাক বোকা, গোপাল ভাঁড়ের দুই কাণ্ড, একাত্তরে কুপোকাত। একাত্তর সালে পাকিস্তানি সেনা কর্তৃক চট্টগ্রামে পরিচালিত নারকীয় হত্যাযজ্ঞের নির্মম সাক্ষী ফয়েজ লেকের বধ্যভূমি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘বধ্যভূমি’ তাঁর বহুল আলোচিত একটি নাটক।

তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন নিজের রচিত নাটকসহ সুকুমার রায়ের হিংসুটে, অবাক জলপান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’, শাপমোচন, বাল্মিকী প্রতিভা, তাসের দেশ, বুদ্ধদেব বসু রচিত ‘অনাম্নী অঙ্গনা’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নাটকে। সঙ্গীত পরিষদের প্রযোজনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শাপমোচন’ নৃত্যনাট্যে নির্দেশনা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। শতাধিকবার মঞ্চায়ন হয়েছে তাঁর ‘অবাক রাজার অবাক কাণ্ড’ নাটকটি।

এছাড়াও লিখেছেন নাট্য বিষয়ক উল্লেখযোগ্য নিবন্ধ ‘প্রয়োজন ছিল আছে’, ‘নিয়মিত হাঁটাচলা’, ‘উপেক্ষিত সাম্প্রদায়িকতা ও আমাদের নাট্যচর্চা’, ‘স্লোগান’, ‘কমিটমেন্ট’, ‘ঘুনপোকা ও নষ্ট স্বপ্নের কড়চা’, ‘আবদুল্লাহ আল মামুন : বাংলাদেশের নবনাট্য আন্দোলন’, ‘প্রয়োজন একনিষ্ঠ নজরদারি’, ‘স্বপ্নতাড়িত একজন’, ‘নাটকে সঙ্গীত’, ‘গ্র“প থিয়েটার যখন পেশাদারী’, ‘সুয়োভাষা দুয়োভাষা বৃত্তান্ত’ ও ‘শ্র“তিনাটক প্রসঙ্গে’। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ২০০৫ সালে ঢাকার গতিধারা প্রকাশন থেকে ‘রাকস’, ২০০১ সালে বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি-ঢাকা থেকে ‘মন ভালো চশমা’, ১৯৯২ সালে চট্টগ্রামের মনন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘রক্ত রাজা সবুজ পরী’ উল্লেখযোগ্য। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১০ পর্বের টেলিসিরিয়াল ‘মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম’ নির্মিত হয়, যার অন্যতম পরিকল্পক ও পরিচালনা সহযোগী ছিলেন নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজী।

সাংবাদিকতা ও নাটচর্চায় জড়িত থাকার সুবাদে প্রদীপ দেওয়ানজী জড়িত হয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের সাথে। নিজেও প্রতিষ্ঠা করেছেন অনেক নাট্য সংগঠন। এর মধ্যে প্রতিনিধি নাট্য সম্প্রদায় ও চিলড্রেন থিয়েটার স্কুলের তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ‘শৈশব’ শিশুনাট্য বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা এবং শিশু নাট্য পত্রিকা শিশু নাট্যম ও ত্রৈমাসিক ‘স্লোগান’ এর উপদেষ্টা সম্পাদক। চট্টগ্রাম গ্র“প থিয়েটার ফোরাম ও চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্র, বোধন আবৃত্তি পরিষদ, নির্মাণ আবৃত্তি দল, শব্দ নোঙর, পেশাজীবি সমন্বয় পরিষদ-চট্টগ্রাম, বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার তিনি উপদেষ্টা এবং স্বাধীনতা স্মৃতি ট্রাস্টের ট্রাস্টি। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য।

বিভিন্ন সংগঠন থেকে তিনি পেয়েছেন পুরস্কার ও সম্মাননা। তন্মধ্যে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ পরিষদ আয়োজিত সাহিত্য প্রতিযোগিতায় নাটকে জাতীয় পুরস্কার, ২০০০ সালে ঢাকা নান্দনিক প্রদত্ত অজিত চট্টোপাধ্যায় নাট্য পুরস্কার, ২০০২ সালে শিশুকেন্দ্র সম্মাননা, ২০০৩ সালে কিডস পদক, ২০০৫ সালে অনন্য থিয়েটার সম্মাননা, খেলাঘর সম্মাননা, ক্যামব্রিজ নৃত্যঘর সম্মাননা, কথন সম্মাননা, সাপ্তাহিক খবরিকা সম্মাননা, ২০০৬ সালে প্যান্টোমাইম মুভমেন্ট সম্মাননা, ২০০৮ সালে সমন্বয় সম্মাননা, পিপলস্ থিয়েটার এসোসিয়েশন ঢাকা প্রদত্ত শিশুনাট্য পদক সম্মাননা প্রাপ্তি উল্লেখযোগ্য।

প্রদীপ দেওয়ানজীর প্রিয় নাট্যকারের তালিকায় আছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ইবসেন, ব্রেখট, শেক্সপিয়র, সৈয়দ শামসুল হক ও বাদল সরকার। প্রিয় নির্মাতা আলী যাকের ও ওপার বাংলার অরুণ মুখোপাধ্যায়। এখন তাঁর স্বপ্নের কেন্দ্রীয় চরিত্র বর্তমান তরুণ প্রজন্ম। সঙ্গে রয়েছে বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী একটি সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্নও।

স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতার উত্থান, সমাজের অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় শক্তির প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে ব্যবধানজনিত কারণে সৃষ্ট দ্রোহীচেতনায় সাংবাদিকতার বদৌলতে চট্টগ্রামের সব প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। নাটককে হাতিয়ার করে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন আজো।

প্রদীপ দেওয়ানজীর মতে, তিনি কখনো ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেননি, নামার ইচ্ছেও নেই। সৃষ্টির মাঝেই আজীবন বেঁচে থাকা সম্ভব এবং সেটাই তিনি করতে চান জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। তিনি মনে করেন, একজন সৃষ্টিশীল মানুষ যে রকম আনন্দের মধ্যে জীবনযাপন করতে পারে-তার সাথে অন্য কোনো কিছুর তুলনা কখনো হয় না।

টিএএস/এএএম/এমএমএইচ/৩

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team