1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
একজন জাফর ওয়াজেদ, নিত্যশুভার্থী প্রিয় অগ্রজ- সালেহ বিপ্লব - MVOICE 24
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৭:৩২ অপরাহ্ন

একজন জাফর ওয়াজেদ, নিত্যশুভার্থী প্রিয় অগ্রজ- সালেহ বিপ্লব

ডেক্স নিউজ
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১
  • ১৯০ বার পড়া হয়েছে

Saleh Biplop

১. বাংলাদেশে তখন সবেমাত্র কেজির হিসেব চালু হয়েছে।

২. বাজারে কিলোগ্রামের বাটখারা এসেছে, অচল হয়ে গেছে সের- পোয়া-ছটাকের বাটখারা। প্রথম প্রথম তো, সরকারের সেরকম মোটিভেশনও ছিলো না, চালু করতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে প্রশাসনকে। বাজারে বাজারে গিয়ে অভিযান চালাতে হয়েছে। সেই সময়ের ঘটনা।

৩. দৈনিক সংবাদের সম্পাদক শ্রদ্ধেয় কেজি মুস্তাফা। সবাই ডাকতেন কেজি ভাই নামে। সেই সংবাদে একদিন রিপোর্ট ছাপা হলো, চট্টগ্রামে কেজি অচল! সবাই তো মোটামুটি ধাক্কা খাওয়ার মতো অবস্থা! কেজি ভাইর পত্রিকায় কেজি অচল! কাহিনী কী?

৪. রিপোর্টটা চট্টগ্রাম অফিসের। রেয়াজউদ্দীন বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে সেরের বাটখারা ব্যবহার হচ্ছে, কেজির বাটখারা পাশেই পড়ে থাকছে। এই হলো রিপোর্ট। লিখেছেন জাফর ওয়াজেদ।

৫. তুখোড় রিপোর্টার, কবি হিসেবে আন প্যারালাল। ঠোঁটকাটা মানুষ। খুব পরিশ্রমী। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর কঠিন দিনগুলোতে ছাত্রলীগের নির্ভয় যোদ্ধা ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন পদে দায়িত্বপালন করেছেন। ডাকসুতে ছিলেন দু’বার, একবার সদস্য আরেকবার সাহিত্য সম্পাদক পদে। ছাত্ররাজনীতির পাট চুকিয়ে পেশাদার সাংবাদিকতায় এসেছেন। সংবাদের সিনিয়র রিপোর্টার ছিলেন। কেজি নিয়ে ওই কাণ্ড যখন ঘটান, তখন তিনি চট্টগ্রাম অফিসে পোস্টেড।

৬. আমরা তখন ছাত্র, এবং বলা যায় ছাত্রনেতাও। প্রেস রিলিজ আর কবিতা নিয়ে চট্টগ্রামের সব পত্রিকা অফিসেই ছুটতাম আমি, এভাবেই সাংবাদিকদের সঙ্গে জানাশোনার শুরু। আর অগ্রসর পাঠক হওয়ার চেষ্টা করতাম বলে জাফর ওয়াজেদসহ সেই সময়কার তারকা সম্পাদক, রিপোর্টারদের অনেককেই নামে চিনতাম। জাফর ভাইর সঙ্গে রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সেই সময়কার সাধারণ সম্পাদক সিরাজউল্লাহ ভাইর বেশ সখ্য ছিলো। সিরাজ ভাইও ছিলেন খুব গল্প বলিয়ে আড্ডাবাজ মানুষ। তিনিও বিভিন্ন প্রসঙ্গে জাফর ভাইর কথা বলতেন।

৭. আরও কয়েক বছর পর যখন ঢাকায় এলাম চাকরি করতে, স্বপ্নের তারকাদের সঙ্গে একে একে দেখা হচ্ছে। আমার যিনি গুরু, তিনিও জাফর ভাইকে ওস্তাদ ডাকেন। তো ওস্তাদের সঙ্গে দেখা হয় সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ইউনিটি, জাতীয় সংসদে। জাফর ভাইর কাজকর্ম, চলাফেরা, কথাবার্তা শুরু থেকেই ভালো লেগেছে। অসম্ভব পড়ুয়া একজন মানুষ।

৮. আমি বরাবরই সিনিয়রদের আশপাশে থেকে শেখার চেষ্টা করি। শুধু নিউজ নয়, অনেক কিছু। সাংবাদিকের চলাফেরা, আউটফিট, এক্সপ্রেশন, অ্যাটিচুড, বডি ল্যাংগুয়েজ, বলার কৌশল, জানার কৌশল- অনেক কিছু। জাফর ভাইকে একটু বেশি করে অবজার্ভ করার সুযোগ এলো ১৯৯৯ সালে। তখন তিনি মুক্তকণ্ঠের চিফ রিপোর্টার।

৯. কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিনিয়র ও মিড লেভেল রিপোর্টারদের জন্যে পাঁচদিনের একটা প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিলো, টপিকস ছিলো পার্লামেন্টারি রিপোর্টিং। সেটা বাস্তবায়ন করেছিলো প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)। পাঁচটা দিন সকাল দশ থেকে বিকেল পাঁচ, দীর্ঘ একটা সময় সিনিয়রদের সঙ্গে থাকতে পারা, এটা ছিলো আমার জন্যে বিশেষ পাওনা।

১০. আমাদের ট্রেইনার ছিলেন মিস্টার টনি বেভিনস। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মিস্টুনি বেভিনস। টনি একজন পেশাদার ট্রেইনার, ট্রেনিং নিয়েই তার কাজ। এক্ষেত্রে তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ও পার্টনার মিস্টুনি। দুজনের টিমটা ঘুরে বেড়ায় গোটা পৃথিবী। পরিচিতি পর্বে এসব জেনে খুব ভালো লাগলো। আরো ভালো লাগলো তাদের বিয়ের কাহিনী।

১১. ব্রিটিশ নাগরিক টনি বেভিনস লেখাপড়া করতে এসেছিলেন শান্তিনিকেতনে। মিস্টুনি কলকাতার মেয়ে। শান্তিনিকেতনে দুজনের দেখা-সাক্ষাতের পর প্রেমের বাঁশি বাজতে সময় নেয়নি। ভিনদেশি প্রেমের গল্পটা তন্ময় হয়ে শুনলাম।

১২. কোর্স শেষের দিন সমাপনী বৈঠক। সাংবাদিকরা যার যার মূল্যায়ন তুলে ধরলেন। টনি ও মিস্টুনি বললেন তাদের কথা। এরপর বিদায় পর্ব। মিস্টুনি বেভিনস আমাদের কাছ থেকে বিজনেস কার্ড সংগ্রহ করছেন, জাফর ভাই পকেট ঘেঁটে দেখেন, কার্ড নেই। দ্রুত করলেন কী, খাবারের ট্রেতে থাকা পেপার টাওয়েল টেনে নিলেন। বাঁ হাতে লিখেন তিনি, টিস্যুর ওপর খসখস করে লিখে দিলেন নাম ঠিকানা। বিষয়টা আমাকে যেমন অভিভূত করেছিলো, চমকৃত হয়েছিলেন মিস্টুনি বেভিনসও! তিনি আমার মতোই অবাক হয়ে কাণ্ডটা দেখছিলেন। তিনি টিস্যু পেপারটা খুব যত্ন করে ব্যাগে রাখছেন, দৃশ্যটা চোখে ভাসে এখনও।

১৩. জাফর ভাই এমনই মজার মানুষ, দিলখোলা মানুষ। . আরও তিন বছর পর কাজ পেলাম বাংলাবাজার পত্রিকায়। জাফর ভাই তখন সেখানকার চিফ রিপোর্টার। জাফর ভাইর বাম পাশের টেবিলটায় আমি বসতাম। সেও ১৮ বছর আগের কথা।

১৪. জাফর ভাই একুশে পদক পেয়েছেন। সরকার তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে পিআইবির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এই পদে যোগ দেয়ার আগে তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের সহকারী সম্পাদক ছিলেন। কারো কাছে ভালো, কারো কাছে খারাপ, বড়ো কোনো দায়িত্বে থাকলে এমনই হয়। কিন্তু আমার কাছে তিনি একজন জ্ঞানপিপাসু, বন্ধুবৎসল, সাংবাদিক-বান্ধব মানুষ, সৃষ্টির নেশায় নিমগ্ন কখনো কখনো আত্মভোলা- সংবেদনশীল মানুষ।

১৫. মেধাবী মানুষের সান্নিধ্য বিশাল একটা বই। আগ্রহের বাতাসে বইটির পাতা ওড়ে, খুলে যায় জানাশোনার নতুন দুয়ার। আমাদের অনেকের কাছে জাফর ভাই তেমনই একজন অনুসরণীয় সাংবাদিক।

Saleh Biplop ফেইসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team