1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
পরকীয়া প্রেমিকের প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের স্বামীকে হত্যা - MVOICE 24
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

পরকীয়া প্রেমিকের প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের স্বামীকে হত্যা

ডেক্স নিউজ
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
  • ২০৭ বার পড়া হয়েছে

এমভয়েস ডেস্ক, ফরিদপুর: ফরিদপুরে পরকীয়া প্রেমিকের প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের স্বামীকে হত্যা করার অপরাধে স্ত্রীহাফিজা বেগম ও তার ছেলে হোসাইনকে আটক করা হয়েছে। সেই সাথে পরকীয়া প্রেমিক আতিয়ার রহমান ভুলু মোল্ল্যা (৬৫) ও তার ছেলে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ৮ ও ৯ জুন পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ: আবুল কালাম আজাদ জানান, গত বছরের ২৬ অক্টোবর দুপুর অনুমানিক বেলা আড়াইটার দিকে ভাঙ্গা থানাধীন চরকান্দা এলাকায় নির্মাণাধীন রেল লাইনের দক্ষিণ পার্শ্বে রাঘদার বিলে জালপাততে গিয়ে স্থানীয়রা সেকান্দর আলী মোল্লা নামে এক ব্যক্তির লাশ দেখতে পায়। আটককৃত হাফিজা বেগম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশটিকে তার স্বামী বলে শনাক্ত করে।

হাফিজা বেগম পরবর্তীতে থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে
কবির উদ্দিন খোকন মোল্যা ও খলিল মোল্লার সহিত দীর্ঘদিন যাবৎ তার স্বামীর সাথে জমি ও রেল লাইনের অধিগ্রহণকৃত এজমালি সম্পত্তির টাকা পয়সা নিয়ে বিরোধ ছিল মর্মে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। যাহা ভাঙ্গা থানার মামলা নং- ২০, তাং- ২৭/১০/২০২০খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোন।

মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে মূল রহস্য বের হয়ে আসে।
মামলাটি তদন্তকালে দেখা যায় যে, মামলার বাদী হাফিজা বেগম ও তাহার স্বামীর সহিত আটক আতিয়ার রহমান ভুলু এর সু-সম্পর্ক ছিল এবং মামলার ভিকটিম সেকান্দার তার আপন বড় ভাই খোকন মোল্লা ও চাচাতো ভাই জমির মোল্লার সহিত রেলওয়ের অধিগ্রহনের আওতায় পড়া ২৭ শতাংশ জমির প্রাপ্ত টাকা ভাগ বন্টন নিয়ে বিরোধ ছিল। অপরদিকে গ্রাম্য দলাদলি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আতিয়ার রহমান ভুলু এর সহিত ভিকটিমের আপন বড় ভাই খোকন মোল্ল্যার সাথে বিরোধ ছিল।

মামলার বাদী হাফিজা বেগমের স্বামীর সহিত খোকন মোল্ল্যার বিরোধের সুযোগ নিয়ে ভুলু মোল্লা বাদীনির সাথে তার পরকীয়ার সম্পর্ককে পুঁজি করেখোকন মোল্লা ও জমির মোল্লাকে ফাসিয়ে দিয়ে এলাকায় তার আধিপত্যকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গত ২৪ অক্টোবর
সন্ধ্যা ৬ টার দিকে গ্রেফতারকৃত আসামী আতিয়ার রহমান ভুলু হাফেজা বেগমকে তাহার বাড়ীর পাশে কলা বাগানের ভিতরে নিয়ে পরামর্শ দেয় যে, তোর স্বামী তো অনেক লোকের কাছ থেকে সুদের উপরে লাখ লাখ টাকা নিছে। ঐ সুদের টাকার জন্য তোর স্বামীও বাড়ী থাকতে পারে না, তোকেও লোকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন কথা শুনতে হয়। তোর ভাসুর খোকন মোল্ল্যাও রেলের টাকা পাইলো সেটাও তোর স্বামীকে ভাগ দেয় নাই। ঐ খোকন মোল্ল্যাকে সায়েস্তা করা দরকার। তুই আর কতদিন মানুষের জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করবি? তার থেকে ভালো তোর অসুস্থ্য স্বামীরে মেরে লাশ ওদের বাড়ী কাছাকাছি বিলের মধ্যে ফালাই দিয়া ওগোরে ফাসাইয়া দেই। তাহলে তুই খোকনের কাছ থেকে রেলের টাকাও আদায় করতে পারবি। খোকন মোল্লাকেও সায়েস্তা করতে পারবি। আমি সবসময় তোর পাশেই থাকবো এবং তোর সব কিছুর দেখাশুনার দায়িত্বও আমিই নিবো। তখন তুই শান্তিতে থাকতে পারবি।

হাফেজা তখন ভুলুর কথায় রাজি হয়ে যায়। সেই সুযোগেই পরকীয়া প্রেমিক ভুলু মোল্লা হাফেজার হাতে সাদা রংয়ের ছোট ৪(চার) টা ঘুমের ট্যাবলেট দেয়। হাফিজার হাতে দিয়ে বলে আমি রাতে এশার নামাজের পর আমি তোর বাবার বাড়ীর পুকুর পাড়ে থাকবো। তুই এই ঘুমের ট্যাবলেট গুলো রাতে সেকেন্দারকে খাওয়াইয়া পুকুর পাড়ে নিয়া আসবি। তারপর যা করার তা আমিই করবো।
পরকীয়া প্রেমিক ভুলু মোল্ল্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর এশার নামাজের আগেই হাফিজা তাহার স্বামী সেকেন্দার মোল্ল্যাকে রাতে খাবার খাওয়ানের পরে ৪টি ঘুমের ঔষধ একত্রে খাওয়াইয়া পুকুর পাড়ের দিকে নিয়া যায়। পরকীয়া প্রেমিক ভুলু মোল্ল্যাও পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এশার নামাজের আগেই তার দোকান থেকে তাহার ছেলে সম্রাটকে নিয়া সোহরাব মোল্লার মসজিদ সংলগ্ন পুকুর পাড়ে অবস্থান করে। এবং তাহার ছেলে সম্রাটকে বলে খোকন মোল্ল্যা আর জমিরকে শায়েস্তা করার জন্য ফাঁদ পাতা হয়েছে।
কিছুক্ষণ পরে হাফেজা সেকেন্দারকে নিয়া অর্ধচেতন অবস্থায় পুকুর পাড়ে আসে এবং ঘুমের ওষুধের প্রভাবে সেকেন্দার আস্তে আস্তে অচেতন হয়ে হাফিজার কাধে ভর দিয়ে থাকে।
মামলার বাদী হাফেজার সামনেই পরকীয়া প্রেমিক ভুলু সেকেন্দারের পিটে দুইটা লাথি মারি। ভুলুর ছেলে সম্রাটও সেকেন্দারের বুকে কয়েকটা ঘুষি মারে। সেকেন্দার অচেতন অবস্থায় বলে ভাই তোরা আমারে মারিস না। তখন ভুলু মোল্ল্যা সেকেন্দারের মুখ চেপে ধরে রাখলে সেকেন্দার একটা গোঙানি দিয়া নিস্তেজ হয়ে যায়। তখন আসামী ভুলু ও তাহার ছেলে সম্রাট ভিকটিম সেকেন্দার মোল্লাকে ধরাধরি করে নৌকায় তুলার সময় সেকেন্দারের ছেলে হোসাইন একটি টর্চ ও কোচ হাতে করে লাইট মারতে মারতে উক্ত ঘটনাস্থলে আসে এবং তার মা, ভুলু ও তার ছেলে সম্রটকে তার বাবা সেকেন্দারের লাশ নৌকায় তুলতে দেখে।
আসামী ভুলু ও তার ছেলে সম্রাট ভিকটিমের ছেলে হোসাইনকে ভয় দেখায় যে তোর বাবাকে মেরেছি তুই যদি কোন টু শব্দ করিস তবে তোকেও এখানেই শেষ করে ফেলবো।
পরে উক্ত ভুলু ও তার ছেলে সম্রাট ভিকটিম সেকেন্দারের ছেলেকে সহ নৌকায় লাশ তুলে ভাঙ্গা থানাধীন চরকান্দা রেল লাইনের একটু দুরে নিয়ে সেকান্দারের হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে সেকেন্দারের লাশ নৌকা থেকে বিলের মধ্যে হাটু পানিতে ফেলিয়া দেয় এবং তারা যথারীতি বাড়ী চলে যায়।
পরের দিন ২৬ অক্টোবর ২১ দুপুর আড়াইটার দিকে চরকান্দা রাগার বিলে হাটু পানির কচুরিপানার ভিতর সেকেন্দার আলী মোল্ল্যার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ বিলের পানি হতে উপরে উঠালে সেখানে ভিকটম সেকেন্দার আলীর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ভুলু মোল্লা সম্রাট মোল্লা, হোসাইন মোল্ল্যা, হাফিজা বেগম কান্নাকাটি করে উপস্থিত লোকজনের সমানে পুলিশের কাছে সেকন্দার আলী মোল্লার হত্যার বিচারের দাবী জানায়।
পরবর্তীতে হাফিজা বেগমস তার প্রেমিক ভুলু মোল্ল্যাসহ তার ছেলে সম্রাট মোল্ল্যা, হোসাইন মোল্ল্যা সহ আরো লোকজন নিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। মামলা রুজু করার পর থেকেই বাদীর প্রেমিক ভুলু মোল্ল্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকতাকে দিয়ে তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন পন্থায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা ভুলু মোল্ল্যা প্ররোচনায় প্রভাবিত না হয়ে তার প্ররোচনাকে মামলার মূল সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একর্পায়ে গত ৮পরকীয়া প্রেমিকের প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের স্বামীকে হত্যা জুন ২০২১ অভিযান চালিয়ে ভুলু মোল্ল্যা ও তার ছেলে সম্রাটকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাবাদ করলে ঘটনার বিষয় স্বেচ্ছায় সবকিছু স্বীকার করে।
৯ জুন ২০২১ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হইলে আদালতে সেকেন্দার আলীকে হত্যার ঘটনার সহিত সরাসরি জড়িত থাকার বিষয় স্বেচ্ছায় স্বীকার করে এবং সেকেন্দার আলীর স্ত্রী ও ছেলে হোসাইন জড়িত বলে জানায়।
আসামীদের স্বীকারোক্তি মতে ৯ জুন রাতে শাহমুল্লুকদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাদীনি হাফিজা বেগম ও তার ছেলে হোসাইন কে আটক করেন। মামলার বাদীনি হাফিজাকেও তার ছেলে হোসাইনকে জিজ্ঞাসাবাদে সেকেন্দার হ্ত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেন। পরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

টিএএস/এএএম/এমএমএইচ/

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team