1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
গোঁড়ামি - MVOICE 24
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

গোঁড়ামি

ডেক্স নিউজ
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২ জুন, ২০২১
  • ২০৯ বার পড়া হয়েছে

Farid Mahmud

গোঁড়ামি

ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকলেও অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষকে দেখেছি নিজের বেলায় খুব সাম্প্রদায়িক। মুখস্ত এবং এককেন্দ্রিক শিক্ষা ও অন্ধ বিশ্বাসের কারণে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিশ্বে ধর্মীয় গোঁড়ামির চর্চা হয়ে আসছে। পৃথিবীর ধ্বংস অব্দি এটা চলতেই থাকবে।

জ্ঞান-বিজ্ঞান-আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও যুগ যুগ ধরে কিছু গোঁড়ামি লক্ষ্য করা যায়।
অনেক চড়াই-উৎড়াই, দীর্ঘ লড়াই- সংগ্রাম, বিপ্লবের পর আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।আমরা কখনো মোগল, কখনো আরাকান, কখনো পর্তুগিজ, কখনো ব্রিটিশ ভারতীয়, কখনো পাকিস্তান ভুখন্ডের অংশ ছিলাম। মহান স্বাধীনতা লাভের পর বৃহত্তর জেলা থেকে ক্রমশ ক্ষুদ্র জেলাবাসীতে পরিণত হয়েছি।
আজো আমরা জেলা-উপজেলা-থানা-ইউনিয়ন নিয়ে আঞ্চলিকতায় মেতে উঠি। অশিক্ষিত মানুষের মাঝে আঞ্চলিকতার গোঁড়ামি খুব একটা চোখে পড়ে না। শিক্ষিত মানুষগুলো নিজের সুবিধার জন্যে এটাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এটাকে হৃদয়ের গভীরে স্বযত্নে তুলে রাখে। শুধু স্বার্থ হাসিলের সময় খড়্গ হিসেবে ধারালো ছুরির মতো এটাকে ব্যবহার করে। সমিতি করে দস্তুরমত আঞ্চলিকতার চর্চা করা হয়!
এই দেশে কিছু অকর্মণ্য মানুষ ঢাল হিসেবে বংশ মর্যাদাকে যথেচ্ছ ব্যবহার করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে পুর্ববঙ্গে যেমন শিক্ষিতের হার ছিল নগন্য তেমন পাকিস্তান আমলে সরকারী চাকুরির ক্ষেত্রে বাঙালিরা ছিল শতকরা ৫ ভাগেরও কম।বাংলা ছিল কৃষিপ্রধান অঞ্চল। মোগল-বৃটিশ আমলে জমিদারদের অধিকাংশই ছিল সনাতনী সম্প্রদায়ের। বৃটিশদের অনুগত জমিদার-খান বাহাদুররা ছিল হাতে গোনা নগন্য। এখনো আমাদের কিছু মানুষের মাঝে বংশ মর্যাদার গোঁড়ামি রয়ে গেছে।
অনেক মানুষ বিত্ত-বৈভবের অহংকার করে। কিছু মানুষ বাপ, দাদার সম্পদ বিক্রি করে খায়। এসব নিস্কর্মা মানুষগুলোকে সমাজে কেউ সম্মানের চোখে দেখে না। আবার কিছু মানুষ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছে। কম মাইনের কাজ করে, বৈধ কোন উপার্জনের উৎস না থেকেও তারা গাড়ি-বাড়ির মালিক বনে গেছে। তাদের টাকার গরমে আশেপাশের মানুষের টিকে থাকা মুশকিল। অথচ খোঁজ নিলে দেখা যাবে যে, এসব মানুষ একপুরুষ আগে ভালো করে খেতেও পারতো না। এখন তারা সমাজের মাথা!
আমরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, দেশ-বিদেশের
নানা বিষয় সম্পর্কে সচেতন, ভালো অবস্থান, উচ্চ পদ-পদবীতে আসীন, হাই সোসাইটির লোকজনের সাথে মেলামেশা করলেও আমাদের চিন্তা, চেতনা, মানসিকতায় আজো ধর্মীয়-আঞ্চলিক, বংশ, অর্থ ও সম্পত্তির গোঁড়ামি রয়ে গেছে। যারা জাতের মানুষ, বনেদী পরিবার তারা কখনো নিজেকে জাহির করে না। যারা হঠাৎ বড়লোক হয়েছে সব গোঁড়ামি তাদের মধ্যে দেখা যায়।
যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিক, মনিষীগণ কুসংস্কার,
অবক্ষয়, গোঁড়ামির ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করেছেন। কারো শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। কেউ কেউ যেমন ছিলেন, বংশ পরম্পরায় তেমনি রয়ে গেছেন।

লেখাটি Farid Mahmud এর ফেইজ বুক পেইজ থেকে সংগৃহীত।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team