1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
#তাহাদের আমি খুজিয়া বেড়াই পর্ব ১ - MVOICE 24
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

#তাহাদের আমি খুজিয়া বেড়াই পর্ব ১

ডেক্স নিউজ
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২৬৬ বার পড়া হয়েছে

Jyotirmoy Dhar

আমি স্বপ্নের মধ্যে বাবুদের বাড়িরে ছেলে

সেজে গেছি রঙ্গালয়ে, পরাগের মতো ফুঁ দিয়ে উড়িয়েছি দৃশ্যলোক
ঘামে ছিল না এমন গন্ধক
যাতে ক্রোধে জ্বলে উঠতে পারে । নিখিলেশ, তুই একে
কী বলবি? আমি শোবার ঘরে নিজের দুই হাত পেরেক
বিঁধে দেখতে চেয়েছিলাম যীশুর কষ্ট খুব বেশি ছিল কিনা………………………………।

হ্যাঁ তাহাদের আমি খুঁজিয়া বেড়াই , তাহাদের কথাই বলতে চাই ! সময়টা শীতের শুরু ১৯৮৯ । ইস্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্যারের বাসা থেকে বাড়ি ফিরছিল ৭ম শ্রেণীর ছাত্র উত্তম ! পাথরঘাটা গির্জা এলাকায় জামাত-শিবিরের ছুঁড়ে দেওয়া পাথরঘাটা গির্জা বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার শরীরের একাংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ছত্রভঙ্গ মিছিল থেকে কয়েকজন ছুটে এসে তাকে নিয়ে যায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। খবর পেয়ে ছুটে যান মা। সেখানে মায়ের কোলেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন উত্তম।
পরদিন বেলা ১২টায় উত্তমের মরদেহ পুলিশ পাহারায় নিয়ে আসা হয় ব্রিকফিল্ড রোডের বাসায়। এরপর মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিয়ে দুইজন আত্মীয়কে নিয়ে শ্মশানে সম্পন্ন হয় সৎকার।
এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সারাদেশে ১২ জানুয়ারি পূর্ণদিবস ও ১৩ জানুয়ারি অর্ধদিবস হরতাল পালন করে। এ সময় সংগঠনটি এক বিবৃতিতে হরতাল চলাকালে মিছিলের ওপর জামায়াত-শিবিরের বোমা হামলায় উত্তম বিশ্বাস নিহত হয় বলে দাবি করে।
ঘটনার ১৪ দিন পর ২৫ জানুয়ারি দুপুরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাথরঘাটায় উত্তমের বাসায় এসে তার বাবা-মা, ভাই-বোনকে সান্ত্বনা দিয়ে যান। এছাড়া আরো অনেকে আসেন তাদের বাসায়। সবাই দিয়েছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস, পরিবারটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি।

সেদিন গিয়েছিলাম সাংবাদিক বিশ্বজিৎ দাদার আমন্ত্রনে পরিবারটির খোঁজ নিতে । উত্তমের বোন সুলেখা বিশ্বাস দিদি বলেন, চোখ বুজলে এখনও দেখি- দাদার রক্তাক্ত দেহ হাসপাতালের বেডে পড়ে আছে। চেষ্টা করলাম সামান্য কিছু করার , যদিও আমি জানি এটা ঐ পরিবারের জন্য কিছুই নয় । তবুও …………………

আজ চট্টগ্রাম বদলে গেছে , বদলে গেছে শহরের মানুষগুলো , তৈরি হয়েছে একটা গিনিপিগ প্রজন্ম – যারা মনে করে আন্দোলন মানে সং সেজে প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা । তৈরি হয়েছে অনেক ডিজিটাল নেতা – গোত্র প্রধান । কেউ কি জানে ২৬ জুলাই , ১৯৯৪ এর কথা , এই শহরেই নরঘাতক গোলাম আজমকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রান দিয়েছিল শহীদ মনি , শহীদ টিটু , শহীদ জাফর ! কেউ কি খবর রাখে চন্দনপুরায় শহীদ আসলাম পারভেজ সেলিম আমাদের সেলিম ভাইয়ের পরিবার কেমন আছে ? যাকে ১৯৯৪ এর ১০ ই মার্চ নির্মম ভাবে ঘর থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছিল জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা , কিংবা কেমন আছে নিটোলের পরিবার ? কেমন আছে শহীদ তবারক , শহীদ শাহাদাৎ , শহীদ জমির , শহীদ ফরিদ , শহীদ মুসা , শহীদ সঞ্জয় তলাপাত্র , শহীদ তানভির হুসাইন রানা সহ সেই সকল বীর অকুতভয় যুবকেরা নিজের প্রান দিয়ে চট্টগ্রামে জামাত-শিবির- যুবকমান্ড –ফ্রীডম এর একছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল – তাঁদের পরিবার ?
না , ওদের কেউ এখন চেনে না । কারন ……………
আমি ফুলের পাশে ফূল হয়ে ফূটে দেখেছি, তাকে ভালোবাসতে পারি না।
আমি কপাল থেকে ঘামের মতন মুছে নিয়েছি পিতামহের নাম,
আমি শ্মশানে গিয়ে মরে যাবার বদলে, মাইরি, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
নিখিলেশ, আমি এই-রকমভাবে বেঁচে আছি, তোর সঙ্গে
জীবনবদল করে কোনো লাভ হলো না আমার -একি নদীর তরঙ্গে
ছেলেবেলার মতো ডুব সাঁতার?- অথবা চশমা বদলের মতো
কয়েক মিনিট আলোড়ন? অথবা গভীর রাত্রে সঙ্গমনিরত
দম্পতির পাশে শুয়ে পুনরায় জন্ম ভিক্ষা? কেননা সময় নেই,
আমার ………………………………

ফেসবুক পেইজ থেকে সংগ্রহীত

 

 

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team