1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
একজন শহীদ কর্নেল লুৎফুর এবং আমি - MVOICE 24
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

একজন শহীদ কর্নেল লুৎফুর এবং আমি

ডেক্স নিউজ
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩১০ বার পড়া হয়েছে

Tanbir Ahmed

জীবনে চলার পথে অনেক মানুষের সাথেই পরিচয় হয়। কেউ থাকে হৃদয়ের মনি কোঠায় আবার কেউ হারিয়ে যায় বিস্মৃতির অতল গহ্বরে। আজ থেকে প্রায় ১৭ বছর পূর্বে কোন এক পৌষের শীতের সন্ধ্যায় আমার সাথে পরিচয় হয় কর্নেল লুৎফর সাহেবের। প্রথম দর্শনেই অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কারণে উনার প্রতি তীব্র আকর্ষণ বোধ করি। বাংলাদেশ বীর সেনাবাহিনীর কর্নেল পদমর্যাদার একজন সম্মানিত অফিসার হয়েও উনার মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংবোধের লেশমাত্র ছিলনা। উপরন্ত প্রথম দর্শনেই উনি আমাকে Young man , How are you ..?? সম্মোধন করে আমাকে আরো বিমোহিত করে তোলেন। কালের পরিক্রমায় সেই সম্পর্ক দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পারিবারিক পরিমণ্ডলে ও প্রবেশ করে, যা পরবর্তীতে দৃঢ় পারিবারিক বন্ধনে পরিণত হয়। উনাকে আমি আঙ্কেল সম্বোধন করতাম। আমরা শ্রদ্ধেয় পিতার সাথেও উনার গড়ে উঠে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। কিছু মানুষরূপী দানবের অযাচিত কর্মকাণ্ডে জীবন যখন বিষাদময় হয়ে উঠেছিল (না পারছিলাম কাউকে বলতে) ঠিক তখনি সেই বিখ্যাত ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল এর মত আলোকবর্তিকা নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কর্নেল লুৎফর সাহেব। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতিকে সুদক্ষ ভাবে মোকাবেলা করে আমাকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সার্বিক সহায়তা করেছিলেন।

পেশাগত কারণে চট্টগ্রাম থেকে চলে গেলেও প্রায় নিয়মিতই যোগাযোগ হতো উনার সাথে। এরিই মাঝে কুখ্যাত ওয়ান-ইলেভেনে আমার পরিবারের উপর বয়ে যাওয়া অযাচিত ঝড়ঝাপটার কথা লোকমারফত জানতে পেরে আমার পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং যথার্থ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তখন ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাস, উনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন (যদি আমার স্মৃতিশক্তি আমার সাথে প্রতারণা না করে থাকে)। আমার সাথে উনার শেষ কথা হয়েছিল ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী। উনি বলেছিলেন আমি ঢাকায় এসেছি , তোমার বাবার সাথে ঢাকায় আমার দেখা হবে (আমার শ্রদ্ধেয় পিতাও তখন ঢাকায়), তুমি কখন আসবে ঢাকায় ….?? তোমাকে অনেকদিন দেখিনি …আসলে অবশ্যই দেখা করবে। ভালো থেকো।

না, সে দেখা আর কখনো হয়নি কর্নেল লুৎফর সাহেবের সাথে। ২৪ ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে দশটায় যখন জানতে পারলাম কুখ্যাত “বিডিআর বিদ্রোহ” সংঘটিত হয়েছে এবং সবকিছুই কতিপয় বিপথগামী দের নিয়ন্ত্রণে। অজানা আশঙ্কায় মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠলো। টিভি চ্যানেলগুলোতে যখন একের পর এক সংবাদ ও সংবাদ চিত্র আসছিল, আমার মন
ততই অশান্ত হয়ে উঠছিল। দুপুর তিনটার দিকে উনার মোবাইলে কল দিলে, মোবাইল বন্ধ পায় আমি। তখনো আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল খারাপ কিছু ঘটেনি। ঢাকায় অবস্থানরত আমার পিতাও খুব টেনশন করছিলেন উনার জন্য। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আমাদের পরিচিত চ্যানেলগুলোতেও আমার পিতা খোঁজ নিয়েও কোন সংবাদ পেতে ব্যর্থ হন। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যার পরও যখন উনার মোবাইল বন্ধ পেলাম তখন সত্যিই নিজের মনে খারাপ অনুভূতির সঞ্চার হতে লাগলো ব্যাপকভাবে। পরেরদিন সন্ধ্যায় অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জনাব আজিজুল হক সাহেবের থেকে জানতে পারলাম সেই ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদটি। দুঃসংবাদটি শোনার পর সেই মুহূর্তের অনুভূতিটুকু আমার মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত মনে থাকবে। ঢাকায় অবস্থানরত আমার শ্রদ্ধেয় বড় বোন এবং আমার মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আমার কথা আর নাইবা বললাম …….

যে মানুষটির স্নেহাশীষ ছায়ায় দেখানো পথে জীবনের বাক পরিবর্তিত করে অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে হাটি হাটি পা করে আজ এই পর্যায় এসেছি, সে মানুষটির শূন্যতা এবং উনার জন্য হাহাকার অনুভব করি প্রতিনিয়তই (বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাস)। এখন আর কেউ আমাকে বলে না………

‘Get up, stand up: stand up for your rights!

Get up, stand up: stand up for your rights!

Get up, stand up: stand up for your rights!

Get up, stand up: don’t give up the fight!’

সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহতালার কাছে এই প্রার্থনা করি, তিনি যেন জাতির এই সূর্যসন্তান কে জান্নাতবাসী করেন।

Salute Colonel Late Martyr Mr Lutfur

Salute Bangladesh Army

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team