1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
আনোয়ারায় যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার: বাড়ছে ঝুঁকি - MVOICE 24
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

আনোয়ারায় যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার: বাড়ছে ঝুঁকি

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৭৭ বার পড়া হয়েছে

 চট্টগ্রামের আনোয়ারার উপজেলায় অনুমোদন ছাড়াই যত্রতত্র চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শতাধিক দোকানে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস (সিলিন্ডার গ্যাস)।

বৃহস্পতিবার উপজেলা বৈরাগ, বটতলী, চাতরী চৌমুহনী বাজার, আনোয়ারা সদর , মালঘর বাজার, পরৈকোড়া ছত্তারহাট বাজারের বিভিন্ন স্পট ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।এসব অধিকাংশ দোকানেরই এলপি গ্যাস বিক্রির কোনো অনুমোদন নেই। মুদির দোকান থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, লোডের দোকান, প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান, টিনের দোকান, স্যানিটারি– এমনকি পান দোকানের সামনে রাস্তার পাশে এলপি গ্যাস (সিলিন্ডার গ্যাস) সারিবদ্ধ রেখে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে।
সূত্র মতে জানা গেছে, কোনো রকম নিয়মরীতি ছাড়াই শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আবার কেউ অনুমোদন ও অগ্নিনির্বাপক ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়াই এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপক যন্ত্র। আর সেই যন্ত্র না থাকায় যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকারও জানা নেই এসব ব্যবসায়ীর।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, খুচরা দোকানে বিক্রির জন্য সর্বোচ্চ ১০টি গ্যাস সিলিন্ডার রাখা যায়। ১০টির বেশি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে হলে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। কিন্তু উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে লাইসেন্স আছে মাত্র চার-পাঁচটির।
সর্বশেষ চলতি বছরের মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের তাতুয়া গ্রামে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি বসতঘর পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ১৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এর আগে গেল বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাতরী ইউনিয়নে কৈনপুরা গ্রামের ২নং ওয়ার্ড নাথ পাড়া এলাকায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আগুনে ৬ বসতঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। এছাড়া ৭ নভেম্বর রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকায় চায়ের দোকানের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে লাগা আগুন বেসরকারি এবি ব্যাংকের শাখা ও ১০টি দোকান পুড়ে গেছে। এতো কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এলপি গ্যাসের চাহিদা বাসাবাড়িতে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই যত্রতত্র নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই প্রকাশ্যে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা।

আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবসা করলে অবশ্যই লাইসেন্স নিতে হবে। নীতিমালা মেনে ব্যবসা করতে হবে। সড়কের ধারে সাজিয়ে রেখে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা খুবই বিপজ্জনক। এ ছাড়া যত্রতত্র পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ বিক্রির কারণে ভয়াবহ অগ্নিকা-সহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। যে কোন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এড়াতে আমরা নিয়মিত সচেতনতা মূলক টহল পরিচালনা করে যাচ্ছি।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য জ্বালানি অধিদপ্তর থেকে অনুমতিপত্র অবশ্যই প্রয়োজন। মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নির্দেশ অমান্যকারীদের অর্থদণ্ড প্রদানের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সম্পাদনায়:এমএমএইচ/০৪

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team