1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
আনোয়ারায় প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের সবজি স্কোয়াশ চাষ - MVOICE 24
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন

আনোয়ারায় প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের সবজি স্কোয়াশ চাষ

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

এমভয়েস ডেস্ক, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম), সোমবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৩: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রথম বারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের সবজি স্কোয়াশ চাষ করে সাড়া ফেলেছে রুহুল আমিন নামে এক কৃষি উদ্যোক্তা। ভাল ফলন হলে অধিক লাভের আশা করছে তিনি। এতে করে উপজেলার কৃষিতে যোগ হলো আরেকটি নতুুুন সবজি স্কোয়াশ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক ৫ নং ওয়ার্ড কমলার বাড়ী ক্ষেতে কৃষি উদ্যোক্তা রুহুল আমিনসহ ২ জন লোক স্কোয়াশ ক্ষেতে পরিচর্যা করতেছে।আধুনিক পদ্ধিতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবহার করা হয়েছে মালচিং পেপার। ফসলের ক্ষতিকর পোকা দমনে হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের অভিমত, স্কোয়াশ কুমড়ার একটি ইউরোপীয় জাত, যা খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও হার্টের রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। স্কোয়াশ মূলত উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাষ হয়ে থাকে। দেখতে অনেকটা শশা আকৃতির। তবে শশার মতো লম্বা হলেও রঙ মিষ্টি কুমড়োর মতো। উচ্চ ফলনশীল জাতের এ সবজি ভাজি, মাছ ও মাংসের সঙ্গে রান্নার উপযোগী। বিশেষ করে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সবজি এবং সালাদ হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দুই পদ্ধতিতে এই সবজিটি চাষ করা যায়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মালচিং পেপার এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের ক্ষেত্রে জমিকে প্রথমে কালো রঙের মালচিং পলিপেপার দিয়ে বেড তৈরি করা হয়, এরপর পলি পেপারে গোলাকৃতির ছিদ্র করে বীজ বপন করা হয়, পরে বীজ অঙ্কুরিত হলে গাছের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উপযোগী মাচা তৈরি করে গাছগুলোকে তার ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়, এই পদ্ধতির চাষাবাদে গাছের শিকড় পলি পেপারের নিচে ঢাকা থাকে ফলে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হয়। এ ছাড়া মালচিং পেপার ভেদ করে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি মাটিকে স্পর্শ করতে পারে না বিধায় মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে, পাশাপাশি বেড তৈরিসহ বিভিন্ন সময় যে সার দেওয়া হয় তা মালচিং পেপারে আবৃত থাকার কারণে বৃষ্টিতে সহজে ধুয়ে যায় না, এ কারণে জমিতে আগাছা হয় না।মাটির রস অক্ষুণ্ন থাকে দীর্ঘদিন, সব মিলিয়ে এই পদ্ধতির চাষাবাদ মাটি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ভালো। সেই সঙ্গে উৎপাদন খরচ সাশ্রয়ী বলে জানা যায়। হলুদ ফাঁদ- পোকা দমনে হলুদ ফাঁদ একটি নিরাপদ, অবিষাক্ত ও পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি বা কৌশল। হলুদ ফাঁদ মূলত বিভিন্ন পোকা বিশেষ করে জাব পোকা, সাদা মাছি ও শোষক পোকা সহ অন্যান্য ছোট পোকা দমনে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া একই সাথে এই ফাঁদ পোকার উপস্থিতি ও পরিমান বুঝতেও সমানভাবে কাজ করে। ফসলের ক্ষেতে যখন আঠা মিশ্রিত হলুদ শিট বা হলুদ কালারের স্টিকি ট্র্যাপ টাঙিয়ে দেয়া হয় তখন পোকা সেখানে উড়ে এসে পড়ে এবং আঠাতে আটকে যায়। প্রতি হেক্টর জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করলে গড়ে খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। হলুদ ফাঁদে খরচ হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এতে কমছে বাড়তি খরচ, পাশাপাশি উৎপাদন হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি। বাজারে বিষমুক্ত এসব সবজির চাহিদা থাকায় পাওয়া যাচ্ছে অতিরিক্ত দামও। লাভজনক হওয়ায় এ পদ্ধতি ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

জানা যায়, কৃষি উদ্যোক্তা রুহুল আমিনের বাড়ী বাঁশখানী সাধনপুর এলাকায়। আনোয়ারা উপজেলা বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামে কায়সার নামে এক ব্যক্তি কাজ থেকে ২ বিঘা (৬৬ শতক) জায়গা নিয়ে স্কোয়াশ কৃষি ক্ষেত করতেছেন। ইতিমধ্যে কৃষি উদ্যোক্তা রুহুল আমিন মরিচ, শশা, ক্যাপসিকাম চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

কৃষকরা জানান, উপজেলা উপ সহকারী কৃষি অফিসার ফারহানা আকতার আপা, নিয়মিত তাদের ক্ষেতগুলো পরিদর্শন করতেছে। কৃষি উদ্যোক্তা রুহুল আমিনের জানান,শখে বছর ৪ বছর যাবৎ কৃষি সাথে সংযুক্ত হয়েছে। তিনি জানান, আমরা যা খাচ্ছি সবকিছু কমবেশি ক্যামিকেল থাকেন। ফসল, বিষমুক্ত শাক-সবজি উৎপাদন করার লক্ষে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছি।এবার ২ বিঘা জায়গা আধুনিক পদ্ধতিতে মালচিং পেপার এবং হলুদ ফাঁদ স্কোয়াশ চাষ করতেছি।

স্কোয়াশ চাষের কোন সহযোগিতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, স্কোয়াশ চাষ সম্পন্ন আমার নিজের অর্থায়নের করছি। তবে উপজেলা উপ সহকারী কৃষি অফিসার ফারাহানা আপা নিজ থেকে আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ সহ স্কোয়াশ ক্ষেতগুলো পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। সামনে দিকে কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেতে পারেন বলে আশা করেন।

আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে স্কোয়াশ চাষ কততে কি পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে এবং ফসল তোলা আগ পর্যন্ত আরো কতো টাকা খরচ হাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তিনি জানান , ২ বিঘা (৬৬ শতক) জায়গা শুধু থেকে ২ জন লোক নিয়মিত কাজ করতেছে। কাজের ওপর নির্ভর করে ৫/১০ জন পর্যন্ত লোক কাজ করতেছেন। প্রতিদিনের নাস্তা এবং খাবার সহ প্রতিজন ৬’শত টাকা করে কাজ মজুরি দিতে হচ্ছে। এখনো পযর্ন্ত ৪০ হাজার টাকা খবর হয়েছে আরোও ১২ হাজার টাকা মতো খরচ হবে। ফসল ভাল হলে বাজারের ভাল মূল্য থাকলে ১ বিঘা থেকে দেড়লক্ষ টাকার মতো লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার রমজান আলী জানান, স্কোয়াশ বিদেশি সবজি।বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক অগ্রগামী কৃষক স্কোয়াশ চাষ করতেছে। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নে আমাদের কিছু কৃষক স্কোয়াশ চাষ করতেছে।এটা একটি ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ শীতকালীন সবজি। বিদেশি সবজি চাষাবাদের ব্যাপারে কৃষকদের কারিগরী ও প্রযুক্তিগত ধারণা না থাকায় আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহযোগিতা করছি। আমাদের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে প্রত্যক্ষভাবে এ বিষয়ে কাজ করছেন। তাছাড়া বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ করতে যে প্রযুক্তি আছে সেগুলো মাঠে ব্যবহার করার জন্য কৃষকদের বলছি তারা ওই ভাবেই কাজ করতেছে। বিশেষ করে স্কোয়াস, শসা, তরমুজ যে ফসল গুলো মাটিতে চাষাবাদ হয় সেগুলোর ক্ষেত্রে মালচিং পেপার ব্যবহার করতে বলেছি। পাশাপাশি স্কোয়াশ যেহেতু কুমড়া জাতীয় সবজি তাই এগুলোতে মাছিপোকা, ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ বেশি এবং তা দমন করার জন্য পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করতে বলছি।

টিএএস/এএএৃ/এমএমএইচ/০৩

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team