1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
মীরসরাইয়ে জেলে পল্লীতে হাহাকার: সাগর থেকে খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা - MVOICE 24
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১২:২২ পূর্বাহ্ন

মীরসরাইয়ে জেলে পল্লীতে হাহাকার: সাগর থেকে খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা

ডেক্স নিউজ
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০২২
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে

এমভয়েস ডেস্ক, সোমবার, ০৮ জুলাই ২০২২: নিষেধাজ্ঞা শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে জেলেরা প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়লেও মীরসরাইয়ের উপকূলীয় এলাকায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে খালি হাতে ঘাটে ফিরেছেন জেলেরা। মজুরী তো দুরের কথা, ইঞ্জিনচালিত নৌকার জ্বালানি খরচও উঠছেনা। গত ২৩ জুলাই থেকে প্রতিদিন ভোরে মাছের আশায় গভীর সাগরে যাচ্ছেন তারা। বিকেলে ফিরছেন শুন্য হাতে। ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পৌহাতে হচ্ছে এখানকার জেলে পরিবারগুলোর। তার উপর রয়েছে ঋণের বোঝা।

উপজেলার উপকূলীয় সাহেরখালী স্লইসগেইট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দুর-দুরান্ত থেকে আসা শতাধিক মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন ইলিশের আশায়। সাগর থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে মাছ নিয়ে জেলেরা তীরে ভিড়লেও তাদের নৌকায় মাছ নেই! প্রতিটি নৌকা থেকে কয়েক মন করে মাছ থাকার কথা থাকলেও তার বিপরিতে ৩-৫ কেজি করে মাছ নামছে। জেলেদের চোখে মুখে যেন রাজ্যের অন্ধকার। খালি হাতে ফিরে গেছেন সব ক্রেতা।

জানা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে এসময় দেশের অন্যান্য জায়গায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। অথচ এখানকার চিত্র তার উল্টো। দুই বছর আগেও বঙ্গপোসাগরের মীরসরাইয়ের সাহেরখালী, ডোমখালী পয়েন্টের ইলিশ দিয়ে পুরো উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরে পাঠানো হতো। এখন মাছ না পেয়ে জেলেরা এই পেশা ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই অঞ্চলে সাগর ঘেঁেস শিল্পনগর গড়ে উঠা, সাগর থেকে ড্রেজিং এর মাধ্যমে বালু উত্তোলন, চর জেগে উঠা, ইলিশ প্রজননের পয়েন্ট দিয়ে জাহাজ চলাচল এর অন্যতম কারণ বলে জানান এখানকার জেলেরা।
সাহেরখালী স্লুইসগেইটে মাছ কিনতে আসা জোরারগঞ্জের ব্যবসায়ী মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, আমরা প্রায়ই এই স্লুইসগেইট থেকে ইলিশ নিয়ে যায়। এবার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর কয়েকদিন এসেছি। কিন্তু মাছ জেলেদের কাছে মাছ না থাকায় কিনতে পারিনি।

বংশী জলদাশ ও রামহরি জলদাশ বলেন, এখানে ইলিশ ধরার ১৫০টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রয়েছে। আজও ৪০-৫০টি নৌকা মাছ ধরতে সাগরে গেছে। আগে সাগরে কাছে গেলেও মাছ পাওয়া যেত, এখন গভীর সাগরে গিয়েও মাছ পাচ্ছি না। সব নৌকা মিলিয়ে ৫ মন মাছও পাওয়া যায়নি। সাগরে চায়নারা আমাদের জাল কেটে দেয়। অনেক সময় জাহাজের কারণে জাল কেটে যায়। ছোট একটা ইঞ্জিনচালিত নৌকা সাগরে গেলে নুন্যতম ৭শ টাকার জ্বালানি লাগে। সারাদিন সাগরে থেকে ৪শ টাকার মাছও পাওয়া যায়নি। জ্বালানির টাকাও বকেয়া থাকতে থাকতে দোকানদার আর জ্বালানি দেবে না।

উপকূলীয় জেলে সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হরিলাল জলদাশ বলেন, মীরসরাইয়ের উপকূলীয় এলাকায় ২৯টি জেলেপাড়া রয়েছে। এসব পাড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার বসবাস করে। এর মধ্যে শুধু সাহেরখালীতেই আছে ৪২০ জেলে পরিবার।
মূলত মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্মিতব্য বিভিন্ন কলকারখানার স্ক্র্যাপ বর্জ্য সাগরের পানি দূষিত করে ইলিশের প্রজনন ধ্বংস করে দিচ্ছে। সাগর থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনও অন্যতম কারণ হতে পারে।

মীরসরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে জেলেরা প্রচুর পরিমাণ ইলিশ মাছ ধরছেন। অনেকটা নিষেধাজ্ঞার সুফল বলা যায়। কিন্তু মীরসরাইয়ের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এখানকার জেলেরা সাগরে গিয়ে ইলিশ পাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, না পাওয়ার অন্যতম কারণ মাছ বিচরণক্ষেত্র পরিবর্তন করেছে। এখানকার বর্তমান পরিবেশ মাছের বিচরণক্ষেত্রের উপর প্রভাব ফেলেছে। মাছ একবার তাঁর বিচরণক্ষেত্র পরিবর্তন করলে সেখানে আর ফিরে আসে না। শিল্পনগর প্রতিষ্ঠা এর অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করছি।

টিএএস/এএএম/৪

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team