1. editor@mvoice24.com : Mahram Hossain : Mahram Hossain
  2. admin@mvoice24.com : admin :
মৎস্য খাদ্যে টন প্রতি বেড়েছে ২৫ হাজার টাকা: হুমকির মুখে মৎস্য শিল্প - MVOICE 24
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

মৎস্য খাদ্যে টন প্রতি বেড়েছে ২৫ হাজার টাকা: হুমকির মুখে মৎস্য শিল্প

ডেক্স নিউজ
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০২২
  • ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

এমভয়েস ডেস্ক, মীরসরাই (চট্টগ্রাম), শুক্রবার, ২২ জুলাই ২০২২: দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির এই সময়ে মানুষের খাদ্য ও জীবন রক্ষাকারী ঔষধের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে মৎস্য খাদ্য এবং ঔষধের দাম। মৎস্য খাদ্যে টন প্রতি বেড়েছে ২৫ হাজার টাকা। খাদ্যের পাশাপাশি ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে হুমকির মুখে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মৎস্য চাষিরা। খাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়লেও বাড়েনি মাছের দাম। ফলে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

মীরসরাইয়ের মুহুরী প্রজেক্ট এলাকাসহ ওচমানপুর, ইছাখালী, ধুম কাটাছরা, দুর্গাপুর ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে বিশাল মৎস্য খামার। প্রায় ৭ হাজার একর জমিতে গড়ে ওঠা এসব মৎস্য প্রকল্প থেকে বছরে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৪৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। প্রতি মৌসুমে এসব মৎস্য প্রকল্প থেকে বছরে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকার মাছ বিক্রি করছেন চাষিরা। মুহুরী মৎস্য প্রকল্প থেকে প্রতিদিন ৭০-৮০ মেট্রিক টনের বেশি মাছ দেশের বিভিন্ন বাজারে আমিষের জোগান দিচ্ছে। এখানকার মাছ চট্টগ্রাম, ফেনী, খাগড়াছড়িসহ বিভাগের বিভিন্ন আড়তে চাহিদা মিটাচ্ছে।

পাঙাশ, কার্প, তেলাপিয়া, রুই, মৃগেল, কোরাল, টেংরা, পাবদা, শিং, কই ইত্যাদি জাতীয় মাছের চাষ বেশি হচ্ছে মীরসরাইয়ে। গত ৩০ বছরে মিঠাপানির মাছ চাষের জন্য বিখ্যাত মুহুরী প্রকল্প সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় মৎস্য জোন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এখানকার মাছ।

মৎস্য খাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় হুমকির মুখে মৎস্য শিল্প। কয়েকটি বড় মৎস্য খাদ্য প্রতিষ্ঠানের পরিবেশক কর্মী ও খাদ্যের ডিলারদের তথ্যমতে, গত দুই বছরে ধাপে ধাপে প্রতি টন (১০০০ কেজি) মৎস্য খাদ্যে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মাছের ভাসমান খাদ্যের দাম ছিল টনপ্রতি ৪৫-৪৮ হাজার টাকা। ২০২১ সালের আগস্টে ছিল ৬০-৬২ হাজার টাকা। বর্তমানে সেই দাম ৭০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। মৎস্য খাদ্যের পাশাপাশি ভুষি, খৈল, চুন, সারসহ ঔষধের দাম বেড়েছে। তবে বিদেশ থেকে আমদানি করা ঔষধের দাম বাড়লেও দেশি কোম্পানিগুলো তেমন বাড়ায়নি।

এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের টেকনিক্যাল সার্ভিস অফিসার মো. ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের কোম্পানির কোনো পণ্যের দাম এখনো বাড়েনি। তবে আগামী কিছুদিনের মধ্যে দাম বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
উপজেলার বিভিন্ন মাছের পাইকারি বিক্রেতাদের তথ্যমতে, সাইজ অনুযায়ী বর্তমানে প্রতি মণ তেলাপিয়া ৪-৬ হাজার টাকা, রুই ৬-১০ হাজার , মৃগেল ৫ থেকে ৮ হাজার, কাতলা ৬ থেকে-১০ হাজার টাকা করে দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। গত দুই বছরে শুধু তেলাপিয়া মাছের দাম বেড়েছে।

ইছাখালীর মৎস্য চাষি মেজবা উল আলম বলেন, মাছের দাম না বাড়লেও গত দুই বছরে খাদ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুন। ফলে আমরা চাষ কমাতে বাধ্য হচ্ছি। আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম কমলেও দেশে দাম কমেনি খাদ্যের দাম। এ শিল্পকে রক্ষার জন্য সরকারিভাবে প্রণোদনা এবং সর্বনিম্ন সুদে ঋণ না দিলে ধ্বংসের মুখে পড়বে মৎস্য শিল্প।

উপজেলার জোরারগঞ্জ বাজারের মৎস্য ও পশুখাদ্য বিক্রেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, মৎস্য খাদ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত দুই বছরে টন প্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। অতিরিক্ত হারে দাম বাড়ায় বিক্রি অনেকটা কমেছে।

ইকবাল পোল্ট্রির সত্ত্বাাধিকারী জিয়া উদ্দিন বাবলু জানান, খাদ্যের দাম বাড়ায় বিক্রি এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। অতীতে বছরে ১২ হাজার টন মৎস্য খাদ্য বিক্রি হয়েছে। এখন সেটা কমে ৮ হাজার টনে নেমেছে।
এ বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহামুদ বলেন, মৎস্য খাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় মৎস্য চাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত। ক্ষুদ্র চাষীরা বিপাকে পড়েছে। তবে মাছের দাম বৃদ্ধি পেলে তারা লাভবান হবেন। ঘুরে দাঁড়াবে এই শিল্প।

প্রতাপ বনিক/ টিএএস/৮

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরো ......
Design Customized By Our Team